ওঁনার শিল্প নিয়ে কথা বলার সময় যা মনে রাখা উচিৎ– এক জন মহৎ মানুষের মহৎ কিছু সৃষ্টির ইচ্ছা, এই ইচ্ছাটা সাধারণের ইচ্ছার থেকে অনেক বেশী প্রবল। সেই প্রবল ইচ্ছার সুফল যে সুদূর প্রসারী হবে সেটাই স্বাভাবিক। তার সাথে সারা পৃথিবী ঘোরার অভিজ্ঞতা, ব্যাপক মাত্রায় শিল্প সংক্রান্ত পড়াশোনা, সারা পৃথিবীর নতুন শিল্প আন্দোলন গুলি সম্পর্কে সম্যক ধারণা…

সাধারণ ছবি একটা মানুষের মুখ, একটা কুকুর, একটা বিড়াল, একটা হাত, তা তিনি কখনই আঁকতে পারতেন না। কিন্তু উনি লক্ষ করেছিলেন সারা পৃথিবীর চিত্রকলায় বিমূর্ততার আধিপত্য। ভ্যান গঁঘ, গঁগ্যা, সেজান থেকে পিকাসো, মাতিস… ইম্প্রেসনিজম, এক্সপ্রেসনিজম, কিউবিজম থেকে অ্যাবস্ট্রাক্ট… বাচ্চাদের মত করে শিল্পীরা আঁকার চেষ্টা করছে। এর থেকে ওঁনার রেখার মধ্যে যে শিশুসুলভ ভুল ছিল ওগুলোকেই উঁনি ব্যবহার করতে লাগলেন। কলাভবনের টিচার ও অনেক গুণী শিল্পীরাই ওঁনার কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি।অনেকে বলেছেন আপনি শুধু শুধু পাতা রং নষ্ট করছেন। কিন্তু ওঁনার মহৎ ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, গভীর সূক্ষ্ম চিন্তার ব্যাপ্তি ওঁনার চিত্র গুলিকে এমন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে যে যত দিন যাচ্ছে মানুষ তত অবাক হয়ে যাচ্ছে।

ওনার কিছু চিত্রকলার রেখার মধ্যে সোনাঝুড়ি গাছের শুঁটিগুলির বিমূর্ত রেখার চলন লক্ষ করা যায়। আমি কিছু চিত্রকে এই লেখার সাথে জুড়লাম। আরো চিত্র আছে কিন্তু সেগুলো আমি এখনো জোগাড় করতে পারিনি।
উনি বলতেন সাহিত্য বা কবিতার মাধ্যমে অনেক কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয় যা কেবল মাত্র চিত্রকলার মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব বলে মনে হয়।
এটা ভাবতে ভালো লাগে যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোনাঝুড়ির শুঁটি গুলিকে কাছ থেকে দেখেছিলেন এবং তার থেকে শিল্প সৃষ্টিও করেছিলেন, কিন্তু উঁনি জানতে দেননি যে এই সেই বস্তু যা থেকে উনি কিছু চিত্রকলার জন্ম দিয়েছেন, উনি হয়তো দেখতে চেয়েছিলেন কেউ এটিকে খু্ঁজে পায় নাকি?…














